১৩ বছরের শিশু যখন দুর্ধর্ষ অপরাধী!

দুর্ধর্ষ শিবির নেতা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মক্কি গ্রেপ্তার

সোর্স: চ্যানেল২৪.টিভি

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর র‌্যাবের জালে বন্দি হলেন ফেনীর দুর্ধর্ষ শিবির নেতা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. আমের মক্কি প্রকাশ মক্কি (২৩)। 

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সে ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ মন্দিয়া গ্রামের জামায়াত নেতা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে প্রায় তিন ডজন মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ মার্চ) বিকেলে র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্প প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. আমের মক্কিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব ও ছাগলনাইয়া থানা সূত্র জানায়, ছাগলনাইয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসায় পড়ালেখা করেন মক্কি। সেখান থেকেই শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।

২০১২ ও ২০১৩ সালে ছাগলনাইয়াসহ ফেনীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে হামলা, পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ, যাত্রীবাহী গাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা, ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টাসহ ৩৬টি মামলার আসামি শিবির নেতা মক্কি। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ২০১৮ সালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে আবার মাঠে নামে মক্কি। সরকারি দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সরকারি দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে মামলা থেকে বাঁচার পথ খুঁজতে থাকেন। তবে দ্রুত চার্জশিট হওয়ায় তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার বিকেলে তাকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপরাজিত দাসের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহীদুল ইসলাম জানান, আমের মক্কি উপজেলার দক্ষিণ মন্দিয়া গ্রামের জামায়াত নেতা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে ও জেলা ছাত্র শিবিরের সাথী। তার বিরুদ্ধে ফেনী, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়া থানায় ৩৬টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে।

১৩ বছরের শিশু যখন দুর্ধর্ষ অপরাধী:

মিডিয়া বলছে ছেলেটির বয়স ২৩ বছর, সে দাখিল পাশ করার পর ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসায় পড়ালেখা করছে। অথচ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২০১২ ও ২০১৩ সালের বিভিন্ন মামলায়। এবিষয়ে মিডিয়া লিখেছে,

২০১২ ও ২০১৩ সালে ছাগলনাইয়াসহ ফেনীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে হামলা, পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ, যাত্রীবাহী গাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা, ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টাসহ ৩৬টি মামলার আসামি শিবির নেতা মক্কি।

দারুণ খবর। ছেলেটির বর্তমান বয়স ২৩ বছর হলে ২০১২ ও ২০১৩ সালে তার বয়স কত ছিলো? ২০১২ সালে তার বয়স ছিলো ১৩ বছর।

মাত্র ১৩ বছর বয়সের একজন শিশু দুর্ধর্ষ শিবির নেতা বনে গিয়ে ৩৬ টি মামলা কিভাবে খেলো?

মানে মানুষকে মামলা দিয়ে ভোগান্তি করা দরকার, তাই হিসাব নিকাশ লাগবেনা, মামলা একটা লিখে গ্রেফতার করতে পারলেই হলো?

কত মানুষকে এভাবে ফাঁসানো হচ্ছে তার কোন হিসাব নাই। ছেলেটি কোন দলের রাজনীতি করে, তার পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড কি সেটা মূখ্য বিষয় না, বিষয় হলো একজন শিশুকে দুর্ধর্ষ অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছে মিডিয়া? কিভাবে সম্ভব ১৩ বছরে সে এতো এতো অপরাধ করেছে?

অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে, ছেলেটি ফেনীতে সামাজিক- মানবিক কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেছে। ফেনীতে নুসরাত হত্যারপর বিচারের দাবিতে সর্বোচ্চ সোচ্চার ছিলো, মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছে....

তাহলে কি তার এই কাজে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয়েছে?

হয়তো আবারার বেঁচে থাকলে এতোক্ষণ অসংখ্য মামলায় জেলে থাকতো! মরে গিয়ে আবরার বেঁচে গেছে...... আর আমরা বেঁচে থেকেই মরে যাচ্ছি।

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন
গণঅধিকার পরিষদ